Popular Posts

Blogger templates

Blogger news

Blogroll

About

Blog Archive

Search This Blog

Powered by Blogger.
Tuesday, August 20, 2019
 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল করতে চাইলে যে সব বিষয় বিবেচনা করতে হবে , তার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
১) রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আগে রাখাইন প্রদেশের স্থানীয় রাখাইন জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারপ্রচারণা চালাতে হবে যাতে পুনরায় তারা রাখাইনের মুসলমানদের অত্যাচার না করেন ৷ এবং এ ধরনের ইতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে জনসভা করে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে ৷
২) রোহিঙ্গা জনসাধারণ যাতে সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা যেমন শিক্ষাগ্রহণের সমঅধিকার, সরকারি চাকরি পাবার সমঅধিকার, স্বাস্থ্যসেবা পাবার সমঅধিকার ও আইনের আশ্রয় লাভের সমঅধিকার পেতে পারে সেজন্য বিশেষ নিশ্চয়তা সরকারের পক্ষ থেকে দিতে হবে ৷
৩) পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসাবে
সরকারি চাকরিতে তাদের জন্য আলাদা কোটার ব্যবস্থা করতে হবে ৷
৪) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভালোমন্দ দেখভাল করার জন্য রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে জাতিসংঘের উপযুক্ত কমিশন চালু করতে হবে ৷
৫) তাদেরকে তাদের পূর্বের বসত বাড়িতেই ফেরত পাঠাতে হবে ৷বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনএইচসিআরকে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে ৷
৬) তাদের ব্যবসাবাণিজ্য ফেরত দিতে হবে এবং যারা ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়েছেন তাদের প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৷
৭) ভবিষ্যতে অতীতের মতো অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার যাতে পূনরাবৃত্তি না ঘটে মিয়ানমার সরকারকে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে ৷
এ সব বিষয় পরিপালন করার পরই কেবল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করলে ভালো হবে ৷ অন্যতায় কেবল প্রত্যাবাসনের নামে জঠিলতাই বাড়বে ৷ আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো ভাববেন ৷ ধন্যবাদ সকলকে ৷৷
.
লেখক-আখতারুল আলম,প্রাবন্ধিক,গবেষক।
Saturday, August 17, 2019


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জিব্রাল্টার উপকূলে অবস্থানরত ইরানি তেল ট্যাংকারটিকে এবার আটকের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। জিব্রাল্টারের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সুপার তেল ট্যাংকারটি মুক্ত হয়ে যখন ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নেয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন আদালতের নির্দেশ জারি হলো।
আমেরিকার কলম্বিয়ার আঞ্চলিক আদালত ওই নির্দেশ জারি করে দাবি করেছে, তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানিলব্ধ আয় দিয়ে সিরিয়াকে সহযোগিতা করার কাজে আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করার দায়ে এ নির্দেশ জারি করা হলো।
গতমাসের গোড়ার দিকে জিব্রাল্টার প্রণালীর আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে ২১ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ইরানের সুপার তেল ট্যাংকার ‘গ্রেস-ওয়ান’ আটক করে ব্রিটেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ওই আটকের ঘটনাকে ‘ব্রিটিশ জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করে তেহরান। তবে জিব্রাল্টারের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার তেল ট্যাংকারটিকে মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দেয়। আমেরিকার পক্ষ থেকে ট্যাংকারটির আটকাদেশ বৃদ্ধি করার আবেদন জানানো সত্ত্বেও জিব্রাল্টারের আদালত ওই রায় দেয়।
আমেরিকার আবেদন সত্ত্বেও ইরানি তেল ট্যাংকার মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইরানের মোকাবিলায় আমেরিকা ও ব্রিটেনের বড় ধরনের পরাজয় বলে উল্লেখ করেছেন। জিব্রাল্টারের আদালত বৃহস্পতিবার তেল ট্যাংকারটি মুক্ত করার নির্দেশ দিলেও জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ আরো কয়েকজন ক্রু পরিবর্তন করার কারণে এটি এখনো জিব্রাল্টার ত্যাগ করেনি।
ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল, সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দেশটির জন্য তেল নিয়ে যাওয়ার কারণে ইরানি সুপার তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। কিন্তু জিব্রাল্টারের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িত স্পেন বলেছে, ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে নয় বরং আমেরিকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেন ইরানি তেল ট্যাংকার আটক করেছে।
সূত্র : পার্স টুডে
Friday, August 16, 2019

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা-সংকট অনেক দিনের। এই সংকট নিয়ে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানান আলাপ-আলোচনা ও উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজেছেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নেগিনপাও কিপজেন । এ বিষয়ে জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের এই সহযোগী অধ্যাপকের নিবন্ধ ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ভাষান্তর সাইফুল সামিন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে স্থানীয় বৌদ্ধদের চলমান সংঘাতের বাস্তবিক সমাধান কে করতে সক্ষম, তা নিয়ে অনেকে কৌতূহলী। অনেকে এই দায়িত্ব দেশটিতে গত বছর ক্ষমতায় আসা অং সান সু চি ও তাঁর ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সরকারের ওপর দিতে চায়।
রোহিঙ্গা ইস্যুটি ২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ, ওআইসি, আসিয়ান, বাংলাদেশ সরকারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
তবে চূড়ান্ত দায়িত্ব মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের ওপর নিহিত।
মিয়ানমারে ২০০৮ সালে প্রণীত সংবিধান দেশটির সেনাবাহিনীকে তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধান অনুয়ায়ী, জাতীয় ও রাজ্যসভায় সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত বিষয়ের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করা ১১ সদস্যের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদে সেনাবাহিনীর আধিপত্য রয়েছে।
সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মন্ত্রণালয়গুলো প্রত্যক্ষভাবে রোহিঙ্গা এলাকায় সহিংসতা মোকাবিলায় যুক্ত থাকায় সেখানে এনএলডির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের চেয়ে সেনাপ্রধানের মনোভাবই প্রাধান্য পায়।
সেনাবাহিনী ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির হাইব্রিড কাঠামোর কারণে সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে যাওয়া সু চি ও প্রেসিডেন্ট থিন কিউয়ের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জের বিষয়। আইনের শাসনের গুরুত্ব এবং রোহিঙ্গা ইস্যু তদন্তে একটি স্টেট অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি পুনরুল্লেখ সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর অনুমোদন বা সহযোগিতা ছাড়া সহিংসতার অবসান ঘটানো সু চির জন্য কঠিন হবে।
বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনী যদি সত্যিকার অর্থে আগ্রহী হয়, তবে রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর ও দ্রুত সমাধান আসতে পারে।
রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো মিয়ানমারের স্বাধীন সুশীল সমাজ সংগঠিত বা শক্তিশালী না হলেও তারা পরিবর্তনের প্রতিনিধি বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে পারে।
বার্মিজ নৃগোষ্ঠীর প্রাধান্য থাকা সুশীল সমাজের গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করতে অনাগ্রহী। কারণ, তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের প্রকৃত নাগরিক বিবেচনা করে না। অধিকাংশ বার্মিজ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি সামরিক ও বেসামরিক এলিট দ্বারা প্রভাবিত। আবার এর বিপরীতও আছে।
রোহিঙ্গা বিষয়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ইস্যুতে স্বাধীন গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে তথ্য ও আলোচনা উপস্থাপন করছে। কিন্তু রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমে তেমনটি হচ্ছে না।
বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির মানুষের গোষ্ঠীসহ সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো যদি রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার প্রতি ব্যাপকভিত্তিক সমবেদনা জানায়, তাহলে এখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কী উপায়ে করা উচিত, তা নিয়ে মিয়ানমারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। অথবা রোহিঙ্গা গ্রহণে ইচ্ছুক দেশগুলোতেও তাদের পাঠানো যায়। অবশ্য অন্যদের এই প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে সত্যিকারের ভাবনাচিন্তা আছে।
সাধারণ মানুষের ভূমিকা সুশীল সমাজের আচরণ প্রভাবিত করবে। রোহিঙ্গাদের সমর্থনে সামরিক নেতৃত্ব বা এনএলডি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন কিংবা চাপ থাকলে সামরিক-বেসামরিক এলিটরা রোহিঙ্গাদের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নরম করতে পারেন।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্বীকার করার বিষয়টি কঠিন বা কল্পনাতীত বলে অনেকে মনে করে। মিয়ানমারের জনগণের জন্য এই বিষয়টি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ যে রোহিঙ্গাদের পরিচয় বা নাগরিকত্বের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর সুরাহা ছাড়া দেশটি সব নেতিবাচক কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় থাকবে। আর রোহিঙ্গা ইস্যু নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড-সম্পর্কিত হুমকি তৈরি করতে থাকবে, দেশটির শান্তি ও উন্নতি বাধাগ্রস্ত করবে।
সংখ্যালঘু এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ ও জনগণের যথেষ্ট সোচ্চার না হওয়ার অন্যতম কারণ তাদের বিতর্কিত নামকরণ। সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠীটি নিজেদের রোহিঙ্গা বলে। আর বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসীর প্রতি ইঙ্গিত করে তাদের বাঙালি বলে মিয়ানমারের অধিকাংশ জনগণ।
অধিকারকর্মী ও গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে একজন বাস্তববাদী রাজনীতিবিদে রূপান্তর করা সু চিকে অবশ্যই সার্বিকভাবে ভোটারদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিতে হয়। সু চি নিজে একজন বার্মিজ। তিনি তাঁর দলের সহকর্মী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নৃতাত্ত্বিক বার্মিজ জনগোষ্ঠীকে হতাশ না করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত স্বাধীন কমিশন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খুঁজছে। এদিকে এনএলডি সরকার হয়তো ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের আওতায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।
মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা
কঠোর এই আইনে কিছু রোহিঙ্গা হয়তো নাগরিকত্ব পাবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকেই নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
রাখাইনে চলমান সহিংসতা তদন্ত এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে আনান কমিশনের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকার গত বছরের ডিসেম্বরে একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেয়। এই কমিশনের প্রধান দেশটির সেনা-সমর্থিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ত সোই। কমিশনে আরও ১২ জন সদস্য আছেন।
রাখাইনে সেনা অভিযানের সময় দমন-পীড়নের বিষয়ে বাইরের প্রতিবেদনের যথার্থতা যাচাই এই কমিশনের দায়িত্ব। আইন মেনে অভিযান হয়েছে কি না তা দেখবে তারা। ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধে তারা সুপারিশ দেবে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের অভিযোগের পর কমিশনটি গঠন করেছিল মিয়ানমার।
বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, যখন সম্প্রতি সফররত মিয়ানমারের এক প্রতিনিধিকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণ কর্তৃক রোহিঙ্গাদের স্বীকারের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান রয়েছে।
আনান ও সরকার নিয়োজিত কমিশন সংকটের সম্ভাব্য সমাধান খুঁজছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে সম্ভাব্য সব সহায়তা করা।
রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট। সংঘাত সমাধানে বিলম্ব হলে তা মিয়ানমার সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
লেখক-নেগিনপাও কিপগেন

মসজিদ হতে বের হতেই দেখি একটা বৃদ্ধা,মহিলা মাটিতে বসে পড়েছে।বয়স পঁচাত্তর কি আশি;দেখেই মনটা ভারী হয়ে গেল।
বুঝলাম উনি ভিক্ষুক,ভিক্ষা করছে পেটের দায়ে।ভিক্ষা করতে যে শারীরিক সক্ষমতা দরকার তা-ও তিনি হারিয়েছেন।
কিন্তু তৎক্ষণাৎ আমার সাথে ব্যাগ ছিলনা দুয়েক পয়সা দান করবো বলে।মসজিদ আমার পাশেই,তাই শুধু গেন্জি পড়েই বের হয়েছিলাম বাসা থেকে।দৌড়ে গিয়ে বাসায় এসে ব্যাগটা নিয়ে আবার এসে দেখি উনি হাটা দিয়েছেন,স্ব-স্থানে নেই।ধীরগতিতে হাটতে হাটতে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন,তবে ভাল করে হাটতেও পারতেছে না।
আমিও দ্রুতগতিতে হেটে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে তাঁকে পেলাম।কয়েকটা টাকা নিলাম হাতে(নিতান্ত কম)।উনি খুশি মনে নিলেন এবং আমার জন্য দোআ করতে করতে মাথায় হাত বুলাইলেন।দুই মিনিট ধরে মোনাজাত ভঙ্গিতে হাত দু'টা উঁচা করে ধরলেন।মনে হয় উনি বুঝতেও পারছেন,আমি ছাত্র মানুষ।তার প্রতি মায়া করে এসে  দুয়েক পয়সা দান করেছি।
আচ্ছা,এদের জন্য কি রাষ্ট্রের কিংবা সমাজের কোন দায়বদ্ধতা নেই??নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানসন্ততি-ই বা কেমনে ছেড়ে দিল রাস্তায়?এরকম উদাহরণ অহরহ।এ বয়সে যেখানে সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার কথা,সেখানে কি কেবলই ভিক্ষার ঝুলি?
ধিক্কার জানাই!!ধিক্কার!!
আল্লাহ আমাকে কোনদিন সামর্থ্য দান করলে,তাদের জন্য কাজ করবো ইন শা আল্লাহ।
.
লেখক-এম নুরুল আজিজ বায়েজীদ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মির নিয়ে আজ শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসতে চলেছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ দিন নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা অর্থাৎ বাংলাদেশী সময়ে সন্ধ্যা আটটায় ওই বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।
কাশ্মির নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, ‘চার দশক পর নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির প্রসঙ্গ নিয়ে যে বৈঠক হতে চলেছে তা নজিরবিহীন।’
কুরেশির মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিটিভি জানিয়েছে, এটা দু’দেশের জমি সংক্রান্ত বিষয় নয়, এটা মানবিকতার বিষয়। বিশ্বকে এটা বুঝতে হবে।
জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ এবং তাকে দু’ভাগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল পাকিস্তান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে যায় চীনও। আগস্ট মাসের জন্য পরিষদের সভাপতিত্বকারী দেশ পোল্যান্ডকে চীন চিঠি দিয়ে জানায়, এই বিষয়ে তারা গোপন বৈঠক চায়। জাতিসঙ্ঘের কূটনীতিবিদ প্রথমে জানিয়েছিলেন, এখনই ওই বৈঠকের দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অবশেষে শুক্রবার ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয় নিরাপত্তা পরিষদ।
নিরাপত্তা পরিষদের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়া ও মধ্য আফ্রিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পাকিস্তানের চিঠির প্রসঙ্গটা তোলে চীন।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা কোনো দ্বন্দ্ব চাই না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।’
অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের জন্য জোরদার চেষ্টাও চালান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এটাকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলেই মন্তব্য করে আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন। বিষয়টি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের সংযত থাকার পরামর্শও দেয় তারা। সংযত থাকার কথা বলেন জাতিসঙ্ঘের প্রধান আন্তেনিও গুতেরেসও।
নিরাপত্তা পরিষদের চার সদস্যকে পাশে না পেলেও চীন এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন আগেই চীনের সমর্থন পেতে সে দেশে যান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি দাবি করেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পক্ষে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্য দিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাশ্মির ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
সূত্র-নয়া দিগন্ত অনলাইন
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর রাজ্যটি পাকিস্তানের ভাগে পড়বে বলেই জিন্নাহ প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় প্রিন্সলি স্টেটটি সে সময় থেকে অদ্যাবধি একটি স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সে সময়ে কাশ্মীরের ৮০ ভাগ লোক মুসলমান হওয়ায় নীতিগতভাবে কাশ্মীর পাকিস্তানের প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও লর্ড মাউন্টব্যাটেন ও নেহরু তা হতে দেননি। রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে নেহরু চেয়েছিলেন কাশ্মীরকে ভারতের ভেতর রাখতে। তাছাড়া রাজ্যটিতে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কারণও ছিল। এ অবস্থায় কাশ্মীরকে নিজ নিজ দেশের অন্তর্ভুক্ত করাতে জিন্নাহ ও নেহরু উভয়েই ব্যর্থ হলে কাশ্মীর কৌশলগতভাবে ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয়ে গেল এবং কাশ্মীরের হিন্দু রাজা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় সেখানে অব্যাহতভাবে গোলমাল চলতে থাকল। ফলে কাশ্মীরের গোলমেলে স্বাধীনতার বয়স ছিল মাত্র ৭৩ দিন। রাজা হরি সিংয়ের অবিমৃষ্যকারিতার জন্য ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে ৩০০০ পাঠান উপজাতি ঝিলম নদী পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢুকে পড়ল। পাকিস্তান যুক্তি দেখাল কাশ্মীরি জনগণ অত্যাচারী রাজা হরি সিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পাঠান উপজাতিদের ডেকে নিয়েছে। এ অবস্থায় পাঠান উপজাতিরা শ্রীনগরের কাছে এসে পৌঁছলে হরি সিং আতঙ্কিত হয়ে দিল্লির কাছে সামরিক সাহায্যের প্রার্থনা জানান এবং ২৪ অক্টোবর পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে শ্রীনগর থেকে পালিয়ে শীতকালীন রাজপ্রাসাদে গিয়ে ওঠেন। এ ঘটনাকে পাকিস্তানি আক্রমণ আখ্যা দিয়ে নেহরু ও মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্য পাঠালে ৩৫০০০ ভারতীয় সৈন্য এসে সেখানকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। কিন্তু হরি সিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চুক্তি না থাকায় বিরোধ লেগেই থাকল। হরি সিং আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনের দাবি ত্যাগ করলেন না। ভারত কাশ্মীরে সমাসীন হওয়ার পর নেহরুর বন্ধু শেখ আবদুল্লাহকে রাজ্যের প্রশাসনিক সরকারের প্রধান হিসেবে বসিয়ে দেয়া হলে হরি সিং কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ পরিত্যাগ করে কাশ্মীর থেকে নির্বাসিত হলেন। অতঃপর ১৯৪৯ সালে শেখ আবদুল্লাহ কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তার দল ন্যাশনাল কংগ্রেসের মাধ্যমে কাশ্মীর শাসন করতে থাকলেন।
হরি সিং ছিলেন একজন হিন্দু শাসক, যিনি মুসলিম অধ্যুষিত একটি রাজ্য শাসন করে আসছিলেন। তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছার কোনো মিল ছিল না। ফলে সহজেই কাশ্মীর তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ঘটনার এ পর্যায়ে নেহরু ও মাউন্টব্যাটেন একমত হলেন যে, ‘কাশ্মীরের জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য জনগণের রেফারেন্ডাম নিতে হবে।’ তদনুযায়ী ১৯৪৯ সালের ২ নভেম্বর নেহরু অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে বেতার ভাষণে বললেন, ‘যখনই শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনই আমরা রেফারেন্ডাম দিতে প্রস্তুত।’ নেহরু তার এই সিদ্ধান্ত একটি টেলিগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকেও জানিয়ে বললেন, ‘আমরা ইউনাইটেড নেশন্সের মাধ্যমে যে কোনো রেফারেন্ডাম করাতে সম্মত আছি।’ কিন্তু শান্তি এলো না। কাশ্মীরে লড়াই শুরু হয়ে গেল এবং ইউনাইটেড নেশন্সের যুদ্ধবিরতি বলবৎ না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরে লড়াই চলতেই থাকল। অবশেষে যুদ্ধবিরতির ফলস্বরূপ কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হল, আর তার নাম দেয়া হল ‘আজাদ কাশ্মীর’, ভারতের কাছে যা ‘অধিকৃত কাশ্মীর’। কাশ্মীরের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে গেল ভারতের নিয়ন্ত্রণে যা জম্মু ও কাশ্মীর নামে পরিচিত। এ ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত নেহরু প্রতিশ্র“ত রেফারেন্ডাম কখনোই অনুষ্ঠিত হয়নি, আর হবে বলেও মনে হয় না। ফলে আজও সেখানে শোকাবহ ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটছে না। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই, ঝগড়া, শত্র“তা এখনও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, নেহরু কাশ্মীরকে কখনও হাতছাড়া করতে চাননি, কারণ নেহরুর পরিবারের জন্য কাশ্মীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারটির উৎস্য কাশ্মীর। কাশ্মীর ছিল তাদের প্রথম ও শেষ আবেগ। যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা কয়েক পুরুষ আগে কাশ্মীর থেকে সমতল ভূমিতে আসেন। তাই সে অর্থে নেহরু কিংবা ইন্দিরা কেউই বলতে পারেন না তারা কাশ্মীরি। তারপরও দেশভাগের ফলে নেহরু আর ইন্দিরার জীবনে কাশ্মীর একটি স্বতন্ত্র অনুষঙ্গ হয়ে ওঠায় ১৯৪৭-এর পর কাশ্মীরের কষ্ট, বিপদ ও রাজনৈতিক দুঃশাসনের ক্ষত সারাতে অস্বীকার করা হয়। ফলে কাশ্মীর একটা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতোই রয়ে যায়। সেই কাশ্মীরই ছিল আমার অদেখা। পৃথিবীর অনেক দেশ, অনেক সুন্দর এলাকা ভ্রমণের সৌভাগ্য হলেও কাশ্মীর দেখার সুযোগ হয়ে উঠছিল না। এদিকে বয়সের কথা চিন্তা করে বিদেশ ভ্রমণের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছি। এবারে তাই দিল্লি যাওয়ার বাধ্যবাধকতায় একইসঙ্গে কাশ্মীর ভ্রমণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর তিন রাত, চার দিনের সেই ভ্রমণে যা দেখলাম, শুনলাম, জানলাম তার সংক্ষিপ্তসার না বলে পারছি না:
আমাদের ভ্রমণটি ছিল শ্রীনগরকেন্দ্রিক। সেখান থেকে গুলমার্গ, মন্ডেলাসহ কয়েকটি স্থান ভ্রমণ করেছি। প্রথমদিনেই ছিল শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেক ভ্রমণ, স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘শাকারা’। একটি গয়নার নৌকায় একজন মাঝির বৈঠার চালনায় ডাল লেক ভ্রমণের নামই হল ‘শিকারা’। ডাল লেকের একদিকে রাস্তা, হোটেল, দোকানপাট, বাড়িঘর; আরেক দিকে পাহাড় আর অন্য দু’দিকে জলাধার। আমরা নৌকায় উঠে বসলে মাঝি বৈঠা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাসমান দোকানিরা এসে আমাদের নৌকাটিকে ঘিরে ধরায় আমি প্রথমে একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম এবং একটু চড়া সুরেই বললাম, ‘What is this?’ একটি নৌকা থেকে বলা হল ফটো উঠাব কিনা, একটিতে গহনা বিক্রি, একটিতে ফল বিক্রি ইত্যাদির ভাসমান দোকান। আমরা কাটা ফলের একটি প্যাকেট নিয়ে তাদের সবাইকে কোনোমতে বিদায় করলাম। যদিও আরও অনেক ভাসমান ফেরিওয়ালা নৌকায় এসে আমাদের এটাসেটা কেনার জন্য বিরক্ত করতেই থাকল। আমরাও ‘না’ ‘না’ বলে তাদের বিদায় করলাম। তারপরও ডাল লেক ভ্রমণের এখানে-সেখানে আমাদের নৌকার মাঝি বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী দেখাতে লেকের ধারের বিভিন্ন দোকানে নিয়ে গেলেন। লেকের পার্শ্ববর্তী স্থলভাগের সেসব দোকানে পশমিদ্রব্য, শাড়ি, থ্রি-পিস সবই দেখা গেল। আমরা দু-একটি দোকানে নেমে কিছু জিনিসপত্র দেখলেও তা পছন্দ না হওয়ায় কেনা হল না। পরে ঘুরতে ঘুরতে মাঝি একটু দূরের একটি স্থানে নিয়ে বললেন, এটার নাম ‘মীনাবাজার’। দেখলাম একই ধরনের দোকানে একটু জমকালোভাবে সাজানো একই ধরনের মালামাল। আমরা নামতে উৎসাহী না হয়ে নৌকা থেকে ওঠানামায় অসুবিধার কথা বলে আর কোনো দোকানেই নামলাম না। শেষ পর্যন্ত মাঝিও দোকান দেখানোয় ক্ষান্ত দিয়ে ভাসমান বোটহাউসগুলোয় কবে কোন সিনেমার শুটিং হয়েছিল সেসব বলতে থাকলেন। এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাল লেক ভ্রমণে গুরুত্বপূর্ণ যা দেখলাম তা হল, ‘ডাল লেকের বোটহাউস’। শত শত বোটহাউস যেন পর্যটকদের ডেকে বলছে, ‘এসো হে সখা, এসো মোর হৃদয় কুটিরে’! কিন্তু একে তো সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশ, তার ওপর শীতকাল বিধায় সেখানে পর্যটক নেই বললেই চলে। তাই ডাল লেকের বোটহাউসগুলোও হৃদয়শূন্য করে বসে আছে। মনে হল ‘উদাস নয়নে তারা যেন প্রেমাস্পদের পথ চেয়ে আছে।’ শত শত বোটহাউস খালি পড়ে আছে। আর বেকার হয়ে বসে আছে সেসবের কর্মচারীরা। জানা গেল বসন্তে বোটহাউসগুলো প্রাণ ফিরে পাবে। অনেক পর্যটকই রাতযাপন করতে বেছে নেবেন এসব বোটহাউস। আবার অনেক নবপরিণীতা দম্পত্তি হানিমুনে এসে চেপে বসবেন এসব বোটহাউসে। উল্লেখ্য, এই ডাল লেকে বসবাসের সময় একে কেন্দ্র করেই আমীর খসরু মন্তব্য করেছিলেন, ‘গার ফিরদাউস রুহি জামিন অস্ত, হামিন অস্তো, হামিন অস্তো, হামিন অস্তো।’ অর্থাৎ ‘পৃথিবীতে যদি কোথায়ও বেহেশত থেকে থাকে তাহলে তা এখানে, তা এখানে, তা এখানে।’ আর সেদিন থেকেই কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলা হয়ে থাকে। যদিও আমি ডাল লেকের সৌন্দর্যে ততটা মুগ্ধ হইনি। হতে পারে সুইজারল্যান্ডের ল্যুজানসহ অন্যান্য স্থান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমি আরও বেশি ভালো ভালো সৌন্দর্য উপভোগ করেছি, সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখেছি, সে কারণে আমার কাছে ডাল লেক এত মনমুগ্ধকর মনে হয়নি। অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সে সময়ে আমীর খসরুর পক্ষে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব না হওয়ায় তুলনামূলক অন্যান্য সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান তার অদেখা থাকায় তার কাছে ডাল লেকই পৃথিবীর ভূস্বর্গ মনে হয়েছিল। যদিও সৌন্দর্যের তুলনামূলক এ ধারণাটি নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত।
তবে শ্রীনগর থেকে বেশ খানিকটা দূরে গুলমার্গ ও মন্ডেলা দেখে আমি কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি। ফেব্রুয়ারির প্রথমাংশের শীতে যা দেখলাম তাও চিরকাল মনে থাকবে। সেখানে গিয়ে বরফের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। গুলমার্গ থেকে কেব্ল কারে চেপে আমরা স্বামী-স্ত্রী পাহাড়ের অনেক উপরে হিমশীতল বরফের দেশে চলে গিয়েছিলাম এবং সেখানে ঘণ্টাখানেক থেকে চা-কফি খেয়ে, ফটো তুলে বরফের রাজ্যে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে আবার কেব্ল কারে চেপে ফিরে এসেছিলাম। পরদিন শ্রীনগরে যেসব স্থান দর্শন করেছিলাম, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শালিমারবাগ এবং আওরঙ্গজেবের তৈরি একটি কেল্লা। শালিমারবাগ তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর, যা সম্পূর্ণ লাহোরের শালিমারবাগের আদলে তৈরি। তবে লাহোরের শালিমারবাগটি আরও বড়। আর সম্রাট আওরঙ্গজেব (আলমগীর) সেখানে সূফীবাদ চর্চার জন্য একটা কেল্লা তৈরি করেছিলেন, যেখানে সূফী সাধকগণ সূফীবাদ চর্চা করতেন এবং মাঝে মধ্যে সম্রাট আওরঙ্গজেব সেখানে আসতেন।
যে কাশ্মীর নিয়ে এতক্ষণ কথা হল, যে কাশ্মীর দেখে এলাম, কেমন আছে সেই কাশ্মীর? কেমন আছেন সেই কাশ্মীরের মানুষজন? মূলত সেই প্রশ্ন মাথায় নিয়েই আমার কাশ্মীর ভ্রমণ শেষ হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৩৭০-এর মাধ্যমে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন লাভেও যে কাশ্মীরিরা সন্তুষ্ট নন তা স্বচক্ষেই দেখে এলাম। প্রতি শুক্রবার মসজিদে মসজিদে খুতবার সময় কাশ্মীরিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। আর মসজিদ থেকে বের হয়েই মিছিল, বিক্ষোভ ইত্যাদির মাধ্যমে সে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। এসব বিক্ষোভ মিছিলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বাধা প্রদান করলে তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কাশ্মীরি জনগণ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতি শুক্রবারই তারা হরতাল-ধর্মঘট আহ্বান করে তাদের দাবি জানিয়ে আসছেন। আবার একই দাবিতে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও লড়াই, যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে ভারত সরকার তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে অযৌক্তিক বলে বাতিল করে দিচ্ছে, সশস্ত্র আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে তাদের দমন করে চলেছে। অথচ কাশ্মীরি জনগণ তাদের নিজস্ব আবাসভূমি গড়ে তুলতে স্বাধীন কাশ্মীর চান। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের যোদ্ধা বলে দাবি করেন। কাশ্মীরের রাস্তাঘাটে চলে-ফিরে, তাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝেছি তা হল, আজ পর্যন্ত তারা নিজেদের ভারতীয় মনে করেন না। একটি আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে তারা কাশ্মীরের স্বাধীনতা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিদ্যমান। শ্রীনগরের মানুষের ৯৯ ভাগ মুসলমান।
একটি দোকানে কিছু পণ্য কিনতে গেলে আমারই বয়সী দোকান মালিক যখন জানলেন যে, আমি বাংলাদেশি; তখন বললেন, ‘বাংলাদেশ আপনাদেশ’। অর্থাৎ বাংলাদেশ তার নিজের দেশ। তিনি এ কথাও বললেন যে, তোমরা পাকিস্তানের সঙ্গে ছিলে বলে স্বাধীনতা পেয়েছ। আমি ভয়ে কোনো জবাব দিলাম না। যদিও বলতে চেয়েছিলাম, আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হল, তারাও তো নিরন্তর যুদ্ধ করে চলেছেন এবং যুদ্ধের মধ্যেই আছেন। সেখানকার রাস্তাঘাটে দশ-বিশ গজ পরপর পুলিশ-মিলিটারি দিয়ে ঠাসা। যেখানে-সেখানে চেকপোস্টে নিরাপত্তা বাহিনী সমরসজ্জায় সজ্জিত এবং সব সময় যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে দায়িত্বরত। অর্থাৎ সেখানকার পরিবেশে অনেকটাই যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। কাশ্মীরে আজও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কাশ্মীর এখনও একটি অগ্নিকুণ্ড। আর তাই কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারও শান্তিতে নেই। কারণ দেশবিভাগের সময়ই সেখানে যে অশান্তির বীজ রোপিত হয়েছিল, সেই অশান্তির সুরাহা করা হয়নি। জম্মু অংশে ধীরে ধীরে হিন্দু বসতি বাড়িয়ে সেখানকার পরিবেশে একটি ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হলেও শ্রীনগর অংশের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ অংশ আজাদ কাশ্মীর তথা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী হওয়ায় সব সময়ই সেখানে যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান। সীমান্তে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে।
কাশ্মীরের দখলদারিত্বের কথা অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে লিখতে হয় : ১৩২৪ খ্রি. জয়নুল আবেদীন এবং ইউসুফ শাহ চক কাশ্মীর শাসন করতেন। পরে ১৫৮৭ খ্রি. সম্রাট আকবর কাশ্মীর দখল করেন। তারপর ১৭৫২ খ্রি. আফগান শাসক মহম্মদ শাহ আবদালী কাশ্মীর দখল করেন। আবার ১৮১৯ খ্রি. পাঞ্জাবের শিখ শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিং কাশ্মীর জয় করেন। অবশেষে ব্রিটিশরা কাশ্মীর দখল করে প্রিন্সলি স্টেটের মর্যাদায় তা শাসন করেন, যার সর্বশেষ রাজা ছিলেন হরি সিং। বর্তমানে কাশ্মীরের ৬০ ভাগ ভারত কর্তৃক শাসিত হচ্ছে। এভাবে সমগ্র কাশ্মীরের ২,২২,২৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ৭৮,১১৪ বর্গকিলোমিটার পাকিস্তান কর্তৃক শাসিত হচ্ছে, যা আজাদ কাশ্মীর নামে পরিচিত। চীনের অধীনেও কাশ্মীরের একটি বিশেষ অংশ রয়ে গেছে, যা অকঝঅও ঈঐওঘ নামে পরিচিত। পর্বতসংকুল এ এলাকাটি অবশ্য মনুষ্যবসবাসহীন। তাছাড়া পাকিস্তান কর্তৃক অধিকৃত অংশ থেকেও চীনের নিকট ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার জায়গা চীনকে ছেড়ে (ঈবফবফ) দেয়া হয়েছে। আর এভাবে কাশ্মীর বিভিন্নভাবে বিভক্ত হয়ে ৬০ ভাগ ভারতের, ৩০ ভাগ পাকিস্তানের এবং ১০ ভাগ চীনের অধীনস্থ হয়েছে। বর্তমানে ভারতের অধীনস্থ অংশকে শ্রীনগর, জম্মু ও লাদাখÑ এই তিনটি বিভাগে বিভক্ত করে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তন্মধ্যে শ্রীনগর ও লাদাখ অঞ্চল নিয়েই ভারতকে সব সময় ব্যতিব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলেই স্বাধীনতাকামীদের তৎপরতা বেশি। ভারত তাদের এ তৎপরতাকে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দিলেও মুসলিম কাশ্মীরিদের কাছে তা স্বাধীনতা সংগ্রাম। কাশ্মীরি মুসলমানদের কেউই ভারতীয় হিসেবে থাকতে চান না। আর তাই তারা নিজেদের ইন্ডিয়ান ভাবেন না। শুধু সেনাবাহিনী দিয়েই এলাকাটিকে ভারত বানিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যথায় কাশ্মীরিরা বলেন, তারা স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের দাবি হল, স্বতন্ত্র আবাসভূমি। যদিও বিগত ৭১ বছর ধরে তাদের সে দাবিকে পাত্তা না দিয়ে দমিয়ে রাখা হয়েছে; কিন্তু দেখেশুনে বা কথা বলে যা বোঝা গেল তা হল, বংশপরম্পরায় কাশ্মীরিরা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি থেকে সরে আসবেন না। আর এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানও তাদের মদদ দিতেই থাকবে। কারণ এ ছাড়া পাকিস্তানেরও গতি নেই। কাশ্মীরিদের সাহায্য, সহযোগিতা, সমর্থন না দিয়ে পাকিস্তানে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারবে না। কারণ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী সে ক্ষেত্রে সরকারকেই খেয়ে ফেলবে। তাই কাশ্মীর ইস্যু পাকিস্তানের জন্যও একটি প্রেস্টিজ ইস্যু। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী নেহরু যে কথাটি পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে রেখেছিলেন এবং রেডিও ভাষণেও তিনি যা বলেছিলেন, সে কথা এখন বাস্তবায়নের সুযোগ আছে বলেও মনে হয় না। কারণ বহু আগেই ভারত সেখান থেকে সরে এসে স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে দমননীতির মাধ্যমে কাশ্মীর শাসন করে চলেছে। আর ভারত এখন বিরাট সামরিক শক্তির অধিকারী। তাই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান কোন পথে হবে, কোন সময়ে হবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

 The Exciting World of Dog Shows: Unveiling the Beauty Dog shows are more than just a gathering of canines; they're a celebration of bre...